Saidul Islam Roney

Web/DB Developer

গল্পতা বন্ধুত্তের-পর্ব ১

By | April 29, 2016 | 0 Comment

hannan roney

আজকে ২০২২ সালের বিশেষ একটা দিন, বিশেষ কারন আজ আমার কলেজ লাইফ থেকে এক সাথে থাকা একটা ক্লোজ ফ্রেন্ড এর বিয়েতে এসেছি আমি আর আমার পিচ্ছি বউ । আজকে বন্ধুর বিয়েতে বন্ধুকে যতটা না খুশি দেখা যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি চিন্তিত মনে হচ্ছে।

ওহ, আমাদের পরিচয়টাই তো দিতে ভুলে গেলাম , আমি নীলাভ ,আমার বউ নীলা আর আমার ফ্রেন্ড নিরব । আজকে বন্ধুর বিয়েতে এসে সবাইকে দেখে মনে পরে গেল পলিটেকনিকের সেই বিখ্যাত মজার ঘটনাটি ।

ঘটনাটি সংক্ষেপ করে আপনাদের সাথে শেয়ার করতেছি । বেশি লং করে বলতে গেলেতো আবার আপনাদের ধৈর্য থাকবে না , আমি নিজের এই তো ধৈর্য নাই, আপনাদের আর কি বলবো বলেন ?

যাইহোক , বন্ধু আমার বেশ ভালো, ভাবতাছেন বন্ধু দেখে বলতেছি ? আরে না ভাই, আগেতো ভাবাভাবি বাদ দিয়ে ঘটনা শুনবেন;

আমার যে সহধর্মিনী ,যাকে সব সময় পিচ্ছি বউ ডাকি, নীলা । নীলাকে প্রথমে আমি চিনতাম না ঠিক করে শুধু জানতাম যে আমার জুনিয়র ব্যাচ এর মধ্যে একটা মেয়ে আছে নীলা, সব মিলিয়ে ভালই । আমার বন্ধু নিরব নীলাকে দেখেই ফিদা হয়ে গিয়েচিল সেই কলেজ লাইফে । আমার বন্ধু তো ভেবেই নিয়েছিল নীলাকেই বিয়ে করবে, বাট নীলার কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে শেষমেষ নীলাভ আর নীলা এর এই মিল হয়েছিল । সেই এক সিনেমা হার মানা ঘটনা । কিছুতা হিন্টস দিলাম ।

এইবার মজার পর্বে আশা যাক , নীলার নাম সবার আগে আমার ফ্রেন্ড নিরবের মুখ থেকে শুনি । নীলাকে দেখে, ওর সাথে ফেচবুকে চ্যাট করে আমার ফ্রেন্ড অনেকটা দুর্বল হইয়া গিয়েছিল । আমার সাথে সব শেয়ার করতো । একটা সময়ে মনে মনে নীলাকে দেখার ইচ্ছে পোষণ করলাম । একদিন দেখলাম নীলাকে ,নাহ দেখতে এতো টা বাজে না । বাট বন্ধু লাইক করে ,আবার সব শেয়ারও করে, সব কিছু চিন্তা করে মাথা থেকে ভূত নামিয়ে মেয়েটাকে বোন২ বানাইলাম । কথা বলতে শুরু করলাম , প্রথমে ফেইচবুক দিয়া শুরু, তারপর আসতে আসতে ফোনে কথা শুরু হয় ।আমার বন্ধুর প্রতি মেয়েটার কাছ থেকে কোন সাড়া পেলাম না ।বরং একটা টাইমে আমারি অন্য কি জানি ফিল হতে লাগলো ।নীলা অবশ্য অনেক কনফিউস আমার ব্যাপারে । কারন নীলা জানতো যে আমি নিরবের খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড ।একটা সময়ে অর কনফিউসন চলে যায় । সব মিলিয়ে পরে কেমতে কি হলো নাকি আমি ঠিক করে বুঝলাম, না নীলা বুঝলো , নাকি আমার ফ্রেন্ড নিরব ।

নীলা যেহেতু একটু বেশি চার্মিং ছিল , সেহেতু কলেজের অনেকের চোখে পড়েছিল ।তাছাড়া পলিটেকনিকে মেয়েরা কম ভর্তি হয় বলে ওদের ছেলেদের চাপটা একটু বেশি এই নিতে হয় ।একটা সময়ে নীলাভ বুঝতে পারলো যে ওর ক্লাসের মধ্যেই অনেকেই নীলাকে চায় । কিছু দিন পর তারা বুঝতে পারে যে নীলা আর নীলাভের মধ্যে কিছু আছে । পরে অবশ্য অনেক ষড়যন্ত্র এর জাল ফেলেও কেও নীলাভ আর নীলাকে আলাদা করতে পারিনি ।এর মধ্যে নিলার মন অনেক বার আপ্স-ডাউন করলেও একটা সময় স্থির হয়ে যায় ।নিলা বুঝতে পারে নীলাভের ভালোবাসা এবং নীলাভ কে যথেষ্ট ভালোবাসা দেয় ।

একটা সময়ে নিরব নীলা এর ভাই হয়ে যায় । নীলাভ আর নীলা এর মধ্যে কোনো ভুল বুঝাবুঝি নিরব এই সব সামলিয়ে নিত । নিলাভের কিছু হলে আমি নিরবের কাছে বলতও , নীলাও নিরবের কাছে । সব মিলিয়ে নিরব আমার ভালো ফ্রেন্ড তো বটেই । সাথে নীলার বড় ভাই আর ওদের ট্রাস্টেড অভিবাবক হয়ে গেল ।

এখন বুঝতে পেরেছেনতো ? কেন আমার বন্ধুকে বেশ ভালো বলেছি । যাইহোক, পরে নীলাভ আর নীলা মিলেই নিরবের জন্য মেয়ে দেখে সব ম্যানেজ করে ছিল ।ইনফাক্ট বিয়ের সব কিছু আমি আর নীলা দেখতেছি । সবাই নিরবের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করবেন । নিরবের নতুন জীবন জেনো অনেক অনেক সুখকর হয় । আর হা , নীলাভ আর নীলার জন্যও দোয়া করতে ভুলবেন না কিন্তু ।
#সংগৃহীত

TAGS

0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *