Saidul Islam Roney

Web/DB Developer

আজ নীলার শুভ জন্মদিন – গল্পটা বন্ধুত্তের- পর্ব ৩

By | September 7, 2016 | 0 Comment

nilav

আজকে ৭ই সেপ্টেম্বার!
তারিখের হিসাবে আজ যদিও ৭ই সেপ্টেম্বার , কিন্তু এখনো সুর্য উদিত হয়নি ৭ই সেপ্টেম্বারের । নীলাভ একা ছাদে বসে আছে , কিছুতেই দুই চোখে ঘুম আসছে না । নীলাভের আজকে কেমন কেমন একটা অদ্ভুত অনুভুতি হচ্ছে, কেমন জানি খুব একা একা লাগছে নীলাভের । সম্ভবত আজ নীলার শুভ জন্মদিন বলে । কয়েক মাস আগেইতো ছিল নীলাভের বার্থ ডে । তখন সময়টা কত ভালোই না ছিল , সম্ভবত নীলাভের পাশে তখন নীলা এবং নীলার উষ্ণ অনুভুতি ছিল বলেই নীলাভের বার্থ ডে টা একটু বেশী এই স্পেশাল ছিল । যেখানে আগে দুইজনে কথা বলতে বলতে রাত কাটিয়ে দিত , আজ দুইজনে কথা বলতে গেলে পরের কথাটি কি বলবে তা ভেবে পায়না । অপূর্ণ রয়ে যায় ভালোবাসা , থেকে যায় কিছু কথোপকথন।
.
.
নীলাভ এই সময়ে একা একা বসে আছে ছাদে , কেমন একটা পরিস্থিতে আছে তা ও হয়তো কাউকেই কিছুতেই বুঝাতে পারবে না বলে বা লিখে । নীলাভ আর নীলার সংসারটা ভেঙ্গে যায় আজ থেকে প্রায় ৩ মাস আগে । এই সংসার ভাঙ্গাতে দুইজনের কম বেশী ভুল ছিল । নীলার কিছু কিছু কাজ নীলাভের ভালো লাগতো না । নীলাভ নীলা কে প্রায়ই ব্যাপার গুলো বুঝাতেন । নীলা কিছু দিন থেকে ঠিক থেকে আবার তা শুরু করে দিতেন । এক পর্যায়ে নীলাভ নীলা থেকে আলাদা হয়ে যাবার জন্য একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেন । কিন্তু আলাদা হয়েও বেশিদিন দূরে থাকতে পারেনি নীলাভ। আরেকবার হার মেনেছিল নীলার ভালোবাসার কাছে । কিন্তু এর পর ও কিছু ছোট খাট ঝামেলা থেকেই যায় । নীলার নীলা কে হয়তো নিজের চেয়ে একটু বেশী এই ভালোবাসতো , তাই ও চেয়েছিল যে নীলাকে নিজের মন মত গড়ে নিতে । ওই দিক নীলা ছিল একটু বেশীই দুরন্ত এবং স্বাধীনচেতা ।
.
.
সব মিলিয়ে একটা সময় ওদের মধ্যে বিশাল একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়ে যায় । নীলাভের সবসময় একটা কথাই ছিল যে, ও নীলাকে প্রচুর ভালোবাসে । নীলা যদি নীলাভের মনমত চলতে না পারে তাহলে যেন আলাদা হয়ে যায় । কিন্তু নীলাও কখনো নীলাভকে আলাদা হতে দিত না । একটা সময় খুব বাজেভাবে ভেঙ্গে যায় তাদের সংসার । এতে নীলার একটু বেশী দুষ্টামির ছলে মিথ্যা কথা আর নীলাভের বাজে মেজাজের কারনেই বেঁধে যায় বিশাল একটা ঝামেলা । পক্ষান্তরে নীলাভ আর নীলার দুইজনের এই সব দিক দিয়ে ক্ষতি হয়ে যায় ।
.
.
এর পর ও নীলা চেয়েছিল সব ঠিক করে নিতে আবার , কিন্তু নীলার পুর্বের কয়েকটা কাজ কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি নীলাভ । যেগুলো কারনে অকারনে নীলাভ কে শুধু আঘাত করে যেত । নীলাভ ভাবলো যে ও নীলার কাছ থেকে যেহেতু আলাদা হয়েই যাবে ওকে এই বাস্তব দুনিয়া সম্পর্কে একটা ধারনা দিয়ে যাবে, কারন নীলা যে দুষ্টামি গুলো করতেছিল তা আসলে ভুল করতে ছিল । একটা সময়ে নীলাভ খুব কঠিন হয়ে , মাঝে মাঝে ওর সাথে বাজে বিহেভ করেও চেষ্টা করেছিল নীলাকে ওর বাজে দুষ্টামি গুলার কাছ থেকে দূরে রাখতে ।কারন মিথ্যা বলে কাউকে হাসানোর চেয়ে সত্য বলে কাঁদানো অনেক ভালো। মানুষ যখন কোনো কারণে কারো দ্বারা কষ্ট পায়, তখন থেকেই সে নিষ্ঠুর হতে শিখে। কষ্টই হলো নিষ্ঠুর হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
.
.
যদি আজ নীলাভ খারাপ হবার কারনেই নীলার ব্যাক্তিগত জীবনে কিছুটা উন্নতি হয় তাহলে নীলাভের নিজের পায়ে কুড়াল মারার প্লানটার হবে সার্থকতা । নীলাভ যথেষ্ট চেষ্টা করেছিল নীলার লাইফে নতুন একটা রুপ দিতে । কিন্তু নীলাভের কোন ফ্রেন্ড এই নীলাভ কে এই কাজে সমর্থন দেয় নাই । এর পরও লুকিয়ে নীলাভ তার প্লান অনুযায়ী কাজ করে গেছিলো ।
.
.
নীলার পিছনে ওর কাছের মানুষ গুলো যা বলতো তা নীলাভ নীলাকে সামনাসামনি বলে দিত , আর এই ও বলে দিত যে এই কাজ করার কারনে ওরা এমন মন্তব্য করার সাহস পায় । নীলা কিছু করতে গেলেই তা কেমন জানি নীলাভের ও অজান্তেই ওর সামনে চলে আসতো । নীলাভ চেয়েছিল যে নীলাভ খুব ভালোভাবে মাথা উঁচু করে চলুক , অনেক ভালো থাকুক । হয়তো অনেকে বলবেন যে ভালোবাসার মানুষের সাথে এমন কঠিন ব্যাবহার করে কিভাবে আরে ভালো রাখবেন ? আরে ভাইয়া ভালোবাসার মানুষ যদি ভুল ভাবে ভালো থাকতে চায়,তাহলে অন্তত আমি তো আমার চোখের সামনে তাকে খারাপ কাজ করতে দিতে পারিনা নাকি ?
অনেকে বলতে পারেন যে আমি ওর ভালো দেখার কে ? এইখানেই আমি নিরব …
.
নীলাভ জানে যে আসলে এইভাবে টাইটে কারোই সম্পর্ক থাকার কথা না , কিন্তু নিজের চেয়ে বেশী ভালবাসে বলেই দূরে সরে যাওয়া …
.

আজকের এই সময়ে নীলাভের কোন ফ্রেন্ড নীলার সাথে কথা বলতে সমর্থন করে না আবার নীলার কোন ফ্রেন্ড ও চায়না নীলা নীলাভের সাথে কথা বলুক । যাদের একজন আরেক জনকে একটা সময়ে ঘুম পাড়িয়ে না দিলে ঘুমাতো না , ঘুম পাড়ানো জন্য অপেক্ষা করতো ,একটা বেস্ট কাপলের সব কিছু ছিল তাদের মধ্যে, তারা আজকে দুই জন দুই পৃথিবীর মানুষ । নীলাভ জানে যে নীলার সাথে ও অনেক গুলা বাজে কাজ করেছে ,এগুলা ভেবে নীলাভের মাঝে মাঝে খুব খারাপ লাগে আবার এই ভেবে নিজেকে সান্তনা দেয় যে আমি যা করে নীলার ভালোর জন্যেই করেছি । কাউকে কষ্ট দিয়ে কখনো সুখি হওয়া যায় না। শুধুমাত্র অভিনয় করাই সম্ভব ।
.
.
মজার ঘটনা হলে যে যাই বলুক ,একে অন্যজনকে উপর দিয়ে যাই বলুক তাদের দুই জনের মনতো ঠিক এই জানে যে কে কাউকে কতটা ভালবাসে । আর কতটা ভালোবাসা দিয়েছিল একে জন্য জনকে ,সেই প্রথম ছোঁয়াগুলো যে চির স্মরণীয় । নীলাভ হয়তো সত্যিই নীলাকে ভালোবাসে বলেই নিজের পায়ে জেনে শুনে কুড়াল মেরেছিল । নীলাভ কখনোই নীলাকে ব্যাবহার করতে চায়নি । ব্যবহার করতে চাইলে হয়তো শুধু শুধু নীলার ব্যাক্তিত উন্নয়নে নিজেই ওর কাছ থেকে দূরে সরে যেত না ।কারন এমনিতেতো ওদের এই সম্পর্কে কোন দিক দিয়ে একটু ও ভালোবাসা কম ছিল না । ভালোবাসা হলো একটি দুর্ভেধ্যো আবেগ । নিঃশব্দ পতনের অভিলাষ,দুঃস্বপ্নের কিঞ্চিৎ যাত্রায়,কত সহজে ,কত গোপনে,
স্বপ্নরা রং বদলায়।
.
.
আজকে নীলাভ যদি নীলাকে সামনে পেত হয়তো জড়িয়ে ধরে বলতো -“সেই শুরু থেকে একটা একটা করে অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমায়,অনেক কাঁদিয়েছি,অনেক অন্যায় করেছি তোমার প্রতি তবুও ছাড়তে চাওনি আমায়। ভালোবাসি বলেও তোমায় সত্যিকারের ভালোবাসাটা দিতে পারিনি,যা করেছি তোমার ভালোভেবে করেছি ,হয়তো ঠিক ভাবে বুঝিয়ে করতে পারিনি , কাঁদিয়েছি শুধু,আজ হয়তো তুমি আমার প্রতি অনেক বিরক্ত, কিন্তু আমার পাশে ছিলে তুমি সবসময়,সত্যি কথা বলতে দোষের/ত্রুটির চেয়ে আমাদের ভুল বুঝা-বুঝি ছিল বেশী ,এরপরও আজও তুমি আমায় রেসপন্স করো ।
তোমায় আমি সত্যিই ভালোবাসি, তবুও পথটা ঠিক করতে পারছিলাম নাহ । তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও ,আর হা,মাঝে মাঝে সত্যি মিস করি অনেক,অনেক । তোমায় যতটা না কাঁদিয়েছি তার চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসা তোমার জন্যে রবে সারাটাজীবন ধরে । কথা দিলাম… ”
.
.
এবং এই কথা গুলো যতটুকু সত্য এর চেয়ে বেশী সত্য যে কখনো চাইনা পিছনে ফিরে যেতে ।
“চোখে হারালে, দিন সে গড়ালে,
মন মানেনা সে কি জানে…
ইচ্ছে বাড়ানো, সব টা হারানো”

শুভ জন্মদিন নীলা …

(সংগৃহীত)

TAGS

0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *